স্বপ্নের ফেরিওয়ালা ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: মোঃ ইদ্রিস ফরাজী

সিনিয়র রিপোর্টার, ঢাকাঃ

স্বপ্নের ফেরিওয়ালা ছিলেন জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান: মোঃ ইদ্রিস ফরাজী
ছবি: সংগৃহীত
নিজস্ব প্রতিবেদকঃ
ইতালী আওয়ামী লীগের সভাপতি, শরিয়তপুর জেলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি মোঃ ইদ্রিস ফরাজী বলেন, প্রথমেই আমি গভীর শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করছি ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে নিহত বঙ্গবন্ধুসহ তার পরিবারের সকল সদস্যদের প্রতি। এবং ঘৃণা জানাচ্ছি একাত্তরের পরাজিত শক্তিদের যাদের নীল নকশায় এই পৈশাচিক হত্যাকাণ্ডটি ঘটেছিল। এই মাসে অর্থাৎ ১৯৭৫ সালের ১৫ আগস্টে সদ্য-স্বাধীন বাংলাদেশে যে নৃশংসতা-বর্বরতা ঘটেছে, তা আর প্রত্যক্ষ করেনি মানবসভ্যতা। পিতা হারানোর কান্নার অশ্রু হয়তো শুকিয়ে গেছে কোনোকালে, কিন্তু হৃদয়ের রক্তক্ষরণ আজও বহমান। সেই ক্ষরণে যে দহন বাঙালির ধমনিতে, তা যে মিটবার নয়। এই আগস্ট মাসেই অর্থাৎ ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট তারা সেই নিকৃষ্টতম গ্রেনেড হামলা চালিয়েছিল। আগস্ট এলেই এই পরাজিত শক্তিদের হুংকার বেড়ে যায়। এই আগস্ট মাস আসলেই তাদের মাথার মধ্যে নানান ষড়যন্ত্র খেলতে থাকে। তারা এগে থেকেই এটা করতে থাকে কিন্তু এই আগস্ট মাসেই তারা সেটা সফল করার চেষ্টা করে। বঙ্গবন্ধুকে সেদিন সপরিবারে হত্যা করার পর আবার সেই তাদের রয়ে যাওয়া কাজ অর্থাৎ বঙ্গবন্ধুর সকল সদস্যদের সমূলে উৎপাটন করার জন্য ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল। কিন্তু আমি মনে করি বঙ্গবন্ধুকে দৈহিকভাবে হত্যা করলেও সত্যিকার অর্থে তিনি বাঙালি জাতির ভেতরে যেভাবে নিজের আদর্শের চেতনাবধ ঢুকিয়ে দিয়েছেন তার মাধ্যমে তিনি অমর হয়ে আছেন। বঙ্গবন্ধু ছিলেন স্বপ্নের ফেরিওয়ালা, তিনি মানুষকে স্বপ্ন বিতরণ করতে পারতেন। নিজের স্বপ্ন দেখতেন এবং স্বপ্নটি অন্যের মাঝে বিতরণ করতে পারতেন। তার কাছে এমন একটি জাদুর, জীয়নকাঠি ছিল যার সংস্পর্শ যারা এসেছে তারা সত্যিই নিজেকে বদলে ফেলেছে এবং বঙ্গবন্ধুর কাছে হয়ে গেছেন। তিনি এমনই একজন মানুষ ছিলেন, তিনি বাঙালি জাতিকে এতই ভালবেসেছেন যে তিনি তার জীবনের অর্ধেকের বেশি সময় বাংলার মানুষের জন্য কাজ করেছেন। তার পরিবারকে অনেক কম সময় দিয়েছেন কিন্তু তিনি তার জনগণকে, এই  বাঙালিদেরকে তাদের ঠিকানা তৈরি করে দেওয়ার জন্য এবং সারা বিশ্বের বাঙালি জাতিকে মাথা উঁচু করে দাঁড় করিয়ে সেই শ্রেষ্ঠত্ব জায়গায় নিয়ে যাওয়ার জন্য তিনি কাজ করে গিয়েছেন। তিনি কত বড় স্বপ্নদ্রষ্টা ছিলেন যে তিনি যে থাকবেন না এ কথাটা তিনি চিন্তা করে বাঙালি জাতিকে বলেছিলেন, আমি যদি না থাকি, আমি যদি হুকুম দিবার নাও পারি, তাহলে তোমাদের যা কিছু আছে তাই নিয়ে শত্রুর মোকাবিলা করতে হবে। অর্থাৎ তিনি আমাদের পথ নির্দেশক ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে দেশে যখন যখন তিনি দেশে প্রত্যাবর্তন করলেন তখন তিনি অশ্রুসজল চোখে বলেছিলেন, সাত কোটি বাঙালিরে হে মুগ্ধ জননী রেখেছ বাঙালি করে মানুষ করনি, কবি গুরু তোমার এই কথা আজকে মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে, আমার বাঙালি আজ জেগে উঠেছে, তারা মানুষ হয়েছে।