শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার মো: জসীম উদ্দিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে দোয়া, মিলাদ, খাবার বিতরন ও আলোচনা

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস উপলক্ষে ইঞ্জিনিয়ার মো: জসীম উদ্দিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে দোয়া, মিলাদ, খাবার বিতরন ও আলোচনা
ছবি: সংগৃহীত

নিজস্ব প্রতিবেদকঃ

শহীদ দিবস ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস  উপলক্ষে জাপান আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক ও ইঞ্জিনিয়ার মো: জসীম উদ্দিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ইঞ্জিনিয়ার মো: জসীম উদ্দিন প্রধানের উদ্যোগে ইঞ্জিনিয়ার মো: জসীম উদ্দিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের আয়োজনে রবিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) সকালে কচুয়ায় কোরআন  তেলওয়াত, মিলাদ, দোয়া ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এছাড়া, সকল ভাষা শহীদদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করে কোরআন  তেলওয়াত, দোয়া ও মিলাদ মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।

দোয়া ও মোনাজাত পরিচালনা করেন মাঝিগাছা দাখিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা মোহাম্মদ আবুল খায়ের। মোনাজাতে  ১৯৫২ সালের একুশে ফেব্রুয়ারি ভাষা আন্দোলনে শাহাদাতবরণকারী সকল শহীদদের  আত্মার  শান্তি কামনা করে দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।


এছাড়া মোনাজাতে দেশ ও জাতির শান্তি-সমৃদ্ধি ও কল্যাণ কামনা এবং জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ ১৫ আগস্ট শাহাদাতবরণকারী তাঁর পরিবারের সকল সদস্যের আত্মার  মাগফিরাত কামনা করে দোয়া করা হয়। 

এসময় প্রবীণ অসহায় ও সুবিধা বঞ্চিতদের ভাষা বাংলা ভাষা চর্চার আহবান করা হয়।

ইঞ্জিনিয়ার মো: জসীম উদ্দিন প্রধান বলেন, মাতৃভাষা সৃষ্টিকর্তার দান। তাই কোনো ভাষাকে অবজ্ঞা করা যাবে না। মাতৃভাষাকে ভালোবাসতে হবে, মর্যাদা দিতে হবে এবং সকল ক্ষেত্রে মাতৃভাষা চর্চায় এগিয়ে আসতে হবে। মাতৃভাষা চর্চা বা ব্যবহারে ধর্মের সঙ্গে কোনো সাংঘর্ষিকতা নেই। আসলে মাতৃভাষাকে আমাদের মননে স্থান দিতে হবে।

তিনি আরও বলেন, বঙ্গবন্ধু ১৯৭০ সালেই ঘোষণা দিয়েছিলেন আমরা যেদিন ক্ষমতায় আসবো সেদিন থেকেই বাংলা রাষ্ট্রভাষা হিসেবে চালু হবে, আর কোনো ঘোষণা লাগবে না। তিনি সেদিন পৃথিবীর জ্ঞানরাজ্যে টিকে থাকতে বাংলাভাষা চর্চা ও প্রসারে সর্ম্পকে জ্ঞানলাভে অনুবাদকেন্দ্র গড়ে তোলার ওপর জোর দিয়েছিলেন। তারপর বাংলা একাডেমিতে অনুবাদকেন্দ্র খোলা হলেও পঁচাত্তরের পনেরই আগস্টে বঙ্গবন্ধুকে সপরিবারে হত্যার পর অন্য অনেক কিছুর সঙ্গে তা বন্ধ হয়ে যায়।  প্রত্যেক জাতির আত্মপরিচয়ের উপাদান থাকে, আর তা হচ্ছে ওই জাতির ভাষা ও সংস্কৃতি। বাঙালির হাজার বা তারও কয়েক হাজার বছরের ইতিহাসে দেখা যাবে সে প্রতিনিয়ত বহিরাগত শক্র, শাসকগোষ্ঠী, দখলদারের বিরুদ্ধে সংগ্রাম করেছে। চিরকাল বাঙালি সংগ্রাম করে টিকে থেকেছে এবং সে অন্য ভাষা থেকে গ্রহণ করেছে কিন্তু নিজ ভাষাকে বর্জন করেনি। আরও একটি দিক লক্ষ্য করা যায় তা হচ্ছে বহিরাগত শক্তি এদেশে এসে শাসন করেছে, সম্রাজ্য বিস্তার করেছে। কিন্তু তারপরও তারা বাংলা ভাষা ও সংস্কৃতি বিকাশে পৃষ্ঠপোষকতা করেছে এবং এ ভাষা ও সংস্কৃতি থেকে কিছু নিয়েছে। তিনি শুদ্ধভাবে বাংলা চর্চা এবং বিশেষ করে কারিগরি ও চিকিৎসা বিদ্যায় বাংলা চর্চার ওপর জোর দেন।